এই এলাকার ইতিহাস

হাওড়ার শিবপুর বিধানসভা (১৬৩ নম্বর): অতীত গৌরবের পুনরুদ্ধার ও বিজেপির হাত ধরে এক 'নতুন শিবপুর'-এর রূপরেখা

হাওড়ার শিবপুর বিধানসভার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও, দশকের পর দশক ধরে চলা রাজনৈতিক অবহেলা ও ভ্রান্ত নীতির কারণে এই কেন্দ্রটি আজ তার পুরনো জৌলুস হারিয়েছে। তবে 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ'-এর মন্ত্রে দীক্ষিত ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) আজ শিবপুরের বুকে প্রকৃত উন্নয়ন এবং সুশাসনের এক নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে।

শিবপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসকে বিজেপির রূপকল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যে চিত্রটি ফুটে ওঠে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

. আদি ইতিহাস ও শিল্পের ভগ্নদশা থেকে 'আত্মনির্ভরতার' ডাক

গঙ্গার তীরের শিবপুর একসময় চটকল (Jute Mills) ও ছোট-বড় কলকারখানায় গমগম করত। বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ওড়িশা থেকে আসা হাজার হাজার শ্রমিক এখানকার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু বিগত সরকারগুলোর চরম উদাসীনতা ও শিল্পবিরোধী নীতির ফলে আজ সেই শিল্পাঞ্চল ধুঁকছে, বহু কারখানা বন্ধ। বিজেপির 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'আত্মনির্ভর ভারত' রূপকল্পই পারে এই বন্ধ কারখানাগুলোতে নতুন প্রাণ ফেরাতে, নতুন বিনিয়োগ টানতে এবং শিবপুরের যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে।

. কংগ্রেস আমল: সুযোগ হাতছাড়ার দশক (১৯ ৫১ - ১৯৭০-এর দশক)

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় কংগ্রেস এই আসনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলেও, তারা শিবপুরের দূরদর্শী কোনো পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। আধুনিক ভারতের চাহিদার সাথে শিবপুরকে যুক্ত করার কোনো সদিচ্ছা তাদের ছিল না।

. বামফ্রন্ট যুগ: শিল্পের অন্ধকার অধ্যায় (১৯৭৭ - ২০০৬)

১৯৭৭ থেকে দীর্ঘ তিন দশক শিবপুর ছিল ফরওয়ার্ড ব্লক ও সিপিআই(এম)-এর দখলে। যতীন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বা কানু সেনের মতো নেতারা জিতলেও, এই সময়েই রাজনৈতিক আধিপত্য এবং জঙ্গি ট্রেড ইউনিয়নের কারণে শিবপুরের শিল্পক্ষেত্র ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। শিল্পের এই শ্মশানের ওপর দাঁড়িয়ে কর্মহীন যুবকদের দুর্দশা কেবল বেড়েছে।

. তৃণমূল কংগ্রেস: প্রতিশ্রুতির বঞ্চনা ও আসল পরিবর্তনের অপেক্ষা (২০১১ - বর্তমান)

২০০৬ সালের পর থেকে এবং বিশেষভাবে ২০১১ সালে 'পরিবর্তন'-এর আশায় শিবপুরের মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিলেও, তারা চরম হতাশ হয়েছেন।

  • দুর্নীতি ও দলত্যাগ: দীর্ঘদিনের বিধায়ক জটু লাহিড়ীও শাসকদলের দুর্নীতি, কাটমানি ও অপশাসনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ২০২১ সালে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে শাসকদলের অন্দরের পচন।

  • বহিরাগত চমক বনাম প্রকৃত কাজ: ২০২১ সালে তৃণমূল একজন তারকা ক্রিকেটারকে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনলেও, শিবপুরের যানজট, বেহাল নিকাশি, পানীয় জলের সমস্যা বা বেকারত্বের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শিবপুর আজ এমন একটি স্বচ্ছ প্রশাসন চায়, যা কেবল বিজেপির 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারই দিতে পারে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিজেপির ভিশন:

  • শিক্ষা ও আইআইইএসটি (IIEST): ভারতের প্রাচীনতম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর একটি হলো শিবপুরের IIEST। বিজেপির 'জাতীয় শিক্ষানীতি' (NEP) এবং গবেষণা খাতে বিপুল বরাদ্দের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বের দরবারে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে।

  • বটানিক্যাল গার্ডেন: ১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্কটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং একে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা মোদী সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির মাধ্যমেই সম্ভব।

  • অখণ্ডতা ও বিকাশ: শিবপুর বরাবরই ভারতের ক্ষুদ্র সংস্করণ, যেখানে হিন্দি ও বাংলাভাষী মানুষের সহাবস্থান। বিজেপি এখানে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে তোষণ না করে, 'সবকা বিশ্বাস'-এর ভিত্তিতে সকল ভাষাভাষী ও ধর্মের মানুষকে সমানভাবে উন্নয়নের মূলস্রোতে আনতে বদ্ধপরিকর।


শিবপুরের মাটি আজ আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি চায় না। শিল্পের পুনর্জাগরণ, আধুনিক পরিকাঠামো এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের জন্য শিবপুরে আজ পদ্ম ফোটানোর সময় এসেছে। বিজেপির হাত ধরেই রচিত হবে আগামী দিনের উন্নত, সুরক্ষিত ও আত্মনির্ভর শিবপুর।

whatsapp icon